সমস্ত দিন কোষ্ঠকঠিন, হাসিমুখে আড্ডা দিন

জগৎ জোড়া জাল (বা অন্যথায়, অন্তর্জাল) সম্পর্কে বহু মানুষের বহু রকমের অভিমত আছে। তা থাকতেই পারে। কিন্তু একটা কথা আমাকে স্বীকার করতেই হবে, ইন ফ্যাক্ট – বেশ কৃতজ্ঞতা সহকারে। ইন্টারনেট না থাকলে – আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি – আমার জীবন অপূর্ণ থেকে যেত। না, না, ন্যাকামি করছি না কিন্তু। অন্তর্জালে ডুব দিয়ে আমার মনের প্রসার ঘটেছে নিঃসন্দেহে, প্রাণের কাছাকাছি জায়গা করে নেওয়া বেশ কিছু মানুষকে পেয়েছি, উদ্ধার করেছি স্মৃতির অন্তরালে তলিয়ে যাওয়া বেশ কিছু পুরোন বন্ধুবান্ধবকে – এবং যোগাড় হয়েছে কিছু বেশ জমিয়ে ঘৃণা-তরঙ্গ (হেট-ওয়েভস) বিচ্ছুরণ করা যায় এরকম শত্রুও বটে। জীবনে ব্যালান্স দরকার না?

আইচ্ছা যাউগ্যা। যেটা বলছিলাম, অন্তর্জাল না থাকলে জীবনের বেশ কিছু মণিমুক্তো অধরাই থেকে যেত। আমার লিস্টিটা বেশ লম্বা। কিন্তু তার মধ্যে অবশ্যই আসবে দু’জনের কথা, এমন দু’জন যাদের লেখার আমি খুব ফ্যান। একজনকে আমি চিনি এবং পছন্দ করি, বন্ধুস্থানীয় বলে মনে করতে পারি যদিও সে আমার থেকে বয়েসে অনেকটাই ছোট। তার তীক্ষ্ণধী এবং বাংলা এবং ইংরেজীতে সমান ভাবে উপভোগ্য লেখা লিখতে পারার ক্ষমতাকে একই সঙ্গে শ্রদ্ধা এবং ঈর্ষা করি। হ্যাঁ, আমি অভিষেক মুখুজ্জ্যের কথাই বলছি। অভিষেক-এর ব্লগের ঠিকানা হোলো –
ovshake.blogspot.com
– বেশ রত্নবিশেষ।

অন্যজনকে আমি পার্সোনালি চিনিনা। এনার লেখার সঙ্গে আমার পরিচিতি অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক। অভিষেক এবং আমার সুযোগ্যা সহধর্মিণী দুজনের কাছ থেকেই ভূরিভূরি প্রশংসাসূচক কথাবার্তা শুনে এই ভদ্রমহিলার লেখা আমি পড়তে শুরু করি। এনার ব্লগের নাম অবান্তর প্রলাপ। ঠিকানা হোলো –
abantor-prolaap.blogspot.com
– এর সম্পর্কে যত কথা বলি না কেন, কম হয়ে যাবে। লেখিকার নাম (বা ছদ্মনাম হয়তো) কুন্তলা। নামটা শুনলেই অবধারিত ভাবে বহুপঠিত বিশেষণ “আলুলায়িত” কথাটা মাথায় চলে আসে। সে যাই হোক, কুন্তলার লেখনশক্তির বলিহারী। এত দুর্দান্ত লেখা আমি সমসাময়িক লোকজনের কাছে কমই পড়েছি। অসামান্য রসবোধ, দারুণ অবসার্ভেশন-এর ক্ষমতা, ঝরঝরে লেখা, পড়লেই বেশ একটা লীলা মজুমদার, নবনীতা দেবসেন-এর ছোঁওয়া ফুটে ওঠে। ভদ্রমহিলা কোথায় থাকেন জানিনা, কিন্তু আমি নিশ্চিত জানি এনার সঙ্গে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা আরামে আড্ডা দেওয়া যায়। আমার কথা পড়ে মেনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই, কুন্তলার সাম্প্রতিক লেখা ‘হ্যাদ্দেহোয়া‘ পড়লেই বোঝা যাবে। হাসতে হাসতে আমার পেটে খিল ধরে যাওয়ার যোগাড়। প্রচণ্ড পুলকে একটা কমেন্টও করে ফেললাম। (কমেন্টারের নামে ঘাবড়াবেন না; ওটা আমার অনেক পুরোন একটা ইয়ে নাম আর কি!)

এবার একটা অকপট স্বীকারোক্তি। বহুদিন ধরেই ভাবছিলাম বাংলায় লেখার একটা প্রচেষ্টা শুরু করি। গুরুগম্ভীর কিছু না, হাবিজাবি লিখে পাতা ভরালেই চলবে। ওই একটু মানসিক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মত আর কি। কিন্তু সাহসে কুলোচ্ছিল না। যাইহোক, কুন্তলার লেখাটা পড়া ইস্তক মাঝে মাঝে সিনারিওটা কল্পনা করে বার বার হেসে ফেলছিলাম। হঠাৎ ভীষণ উদ্বুদ্ধ হয়ে পড়লাম – মনে হোল, দিই ঝাঁপ। ব্যস, ঝপাং। হয়ে গেল হযবরল-র সূত্রপাত। নামটা অফ কোর্স একদমই অরিজিন্যাল হলনা, কিন্তু আশাকরি ওই নামের স্পিরিটটা – ননসেন্স প্রোজ – তাকে ক্যাপচার করতে পারব। দেখা যাক। কুন্তলা বা অভিষেকের মতন আমার ক্যালি থাকলে অবশ্য অন্য কথা ছিল। যাউকগ্যা, সে দুঃখের কথা আর কমু না।

তবে ওই গ্যালেদ্দেহোয়া থেকে হ্যাদ্দেহোয়া হওয়া নিয়ে আরেকটা একই ধরণের কথা মনে পড়ে গেল। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী ছুটি কাটানোর জায়গা লা হোইয়া। বন্ধুবান্ধবের কাছে নাম শুনে শুনে একদিন ইচ্ছে জাগলো জায়গাটাকে মানচিত্রে ফেলে দেখার। La Hoya লিখে বহু সন্ধান করে কিছু না পাবার পর এক বন্ধু দয়াপরবশ হয়ে বানানটা দেখিয়ে দিল। দেখলাম যাকে কিনা ছোটবেলা থেকে বই-টইতে পড়ে জেনে এসেছি লা জোল্লা বলে, আসলে সেই La Jolla-ই হোল লা হোইয়া। স্প্যানিশ ভাষায় J-এর উরুশ্চারণ একদম হ-এর মতন, আর ডাবল-এল টা নাকি একটা আলাদা অক্ষর ওদের বর্ণাবলীতে, তার উচ্চারণ হয় ‘ইয়’র মতন। যেমন পাতলা বড় গোল রুটি Tortilla-র নাম আসলে তোর্তিইয়া।

যাচ্চলে।

Advertisements

6 thoughts on “সমস্ত দিন কোষ্ঠকঠিন, হাসিমুখে আড্ডা দিন

  1. Bhor teen ter shomoy tumi “HawJawBawRawLAw” e tag korechho dekhe, bichhana thekei uthe elam: “HawJawBawRawLaw” er proti amar dedication shanghatik level er. Banglay jara blog lekhe, ebong likhte pare tader ke ami khure khure nomoshkar janai, including Abhishek da and Kuntala. Khub bhalo laglo, aro lekho.:D Amar lekha to idaning kale mathay uthechhe. Kintu wordpress e keno khulle? Google…(thuri) blogspot ki dosh korlo?

    • Google এমন কিছু দোষ করেনি। ভাবলাম, এই একটা প্ল্যাটফর্ম আছে, সেটা একটু ব্যবহার করে দেখি, এই আর কি। দেখি, এনথু কদ্দিন থাকে! আমার তো আবার সবই একটু ইয়ে টাইপের ব্যাপার। আমি আসলে বড্ড lazy.

    • অভিষেককে তোল্লাই দিলাম বলছিস? ছেলেটা যতই পাগল ছাগল হোক না কেন, বড় ভাল লেখে রে। আর কুন্তলার ব্লগের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য তো আমার কৃতজ্ঞ থাকাই উচিত, নয়? 😀 বাই দ্য ওয়ে, তোর লেখারও যে আমি শওকিন, সেটা তো নতুন করে বলে দিতে হবে না আশাকরি… শুধু তোকে যে কতদিন ধরে জপাচ্ছি তুই একটা ব্লগ লেখ, শুরু কর, তুই পাত্তাই দিচ্ছিস না। ফেসবুক নোট-এর সিস্টেমটা সিমপ্লি নট গুড এনাফ।

  2. মাকে নিয়ে রসিকতা? দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা। কা—ন মুলে দেব একেবারে। অবশ্য জনান্তিকে বলি, দারুণ উপভোগ্য হয়েছে কিন্তু।

কেমন লাগল? লিখে ফেলুন!

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s