হঠাৎ করে, ভাগ্যক্রমে

পুরুলিয়ায় আমার সেই আবাসিক বিদ্যালয়-এর গল্প বলেছিলাম ক’দিন আগে? আবার সেখানে ঘুরে আসি। আসলে ওই তিনটে বছর বেশ কেটেছিল, টুকরো টুকরো করে অনেক ঘটনা, অনেক স্মৃতি জমা হয়ে আছে। সেই সময়ে আমার জীবনে একটা স্ট্রাকচার দরকার ছিল (সেদিন বুঝিনি, কিন্তু পরে বুঝেছি) – এই প্রয়োজনটা সকলের সমান ভাবে হয়না। অনেকেই বেশ স্বয়ংসিদ্ধ ভাবে নিজেদেরকে ম্যানেজ করে নিতে পারে। তারা নমস্য ব্যক্তি, কিন্তু হোস্টেল-এর ওই নিয়মনিষ্ঠ বাঁধাধরা জীবন – সময়ে পড়া, সময়ে খেলা, সমানভাবে সমস্ত অ্যাক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ – আমাকে, একান্তভাবেই আমার নিজের দিক থেকে, ফোকাস্‌ড্‌ হতে সাহায্য করেছিল। আবার বলছি, এটা আমার নিজস্ব অনুভূতি, এই ব্যাপারে কোন ওয়ান-সাইজ-ফিটস্‌-অল -এর প্রশ্ন নেই।

বিস্তারিত পড়ুন

দৈর্ঘ্য প্রস্থ শশব্যস্ত

সেই ছোটবেলা থেকে – ইন ফ্যাক্ট, জ্ঞান হওয়া ইস্তক – দেখে আসছি যে আমার স্বর্গাদপি গরিয়সী জননী বেশ একটু ইয়ে, মানে, চওড়া মতন। সেই তুলনায় আমার বাবা বেশ অপেক্ষাকৃত রোগাসোগা। অনেকটা সেই ভানু ব্যানার্জীর রসিকতার মতন, যেখানে মুখ্য প্রোটাগনিস্ট-এর গলায় ভানু তার গৃহিণীকে বলছেন, “ই-ই-ই-স! রিক্সায় উইঠ্যা বইলে রিক্সাওলায় পর্যন্ত কয়, বাবু, আপনে মাইজীর কোলে চইড়্যা বসেন!” অথবা যেখানে মনের দুঃখে প্রোটাগনিস্ট-এর গৃহিণী অশ্রুবিধুর গলায় বলছেন, “তাই বলে এই ভর সন্ধ্যেবেলা তুমি আমার চেহারা তুলবে, শরীর তুলবে?” তাতে ভানু বলছেন, “না না, শরীর তুলুম ক্যান। শরীর তুলুম মনে করলে তো ওয়েট লিফটার হইতাম!” এই দুটোই আবার ক্যাসেট-এ শোনার আগেই আমি মা’র কাছেই প্রথম শুনি।

বিস্তারিত পড়ুন

সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি

কুন্তলার লেখার তারিফ করতে করতে সেদিন আমি আর আমার স্ত্রী একটা জিনিস আবার নতুন করে খেয়াল করলাম। ওর লেখার নান্দনিকতার একটা মেজর কারণ হোল ওর সৃজনশীলতা, বা ক্রিয়েটিভিটি – যার মাধ্যমে ওর চোখে সাধারণ জীবনের দৈনন্দিন ঘটনাগুলিও অসাধারণ হয়ে ধরা পড়ে, এবং এক্সপ্রেশন-এর গুণে অনন্য হয়ে ওঠে। আমার এক অতিপ্রিয় ভগিনীসমা বন্ধুরও এই গুণটি আছে – তার নাম শকুন্তলা, তার অশেষ গুণাবলীর কথা অন্য আরেকদিন ব্যাখ্যান করব না হয়, কিন্তু তার লেখার হাতটিও চমৎকার – যদিও এই মুহূর্তে আমার কাছে প্রমাণ চাইলে আমি অপারগ, কারণ বার বার করে ধাক্কানো সত্ত্বেও তিনি কিছুতেই একটা ব্লগ লেখা শুরু করছেন না, গজগজগজগজগজগজগজ। যাউকগ্যা, কিন্তু (শ)কুন্তলাদ্বয়ের লেখার এই একটা গুণ আমি খুব উপভোগ করে থাকি।

… নট টু মেন্‌শন, অফ কোর্স, হিংসায় জ্বলেপুড়েও যাই। ইস, আমি যদি এইরকম লিখতে পারতাম।

[দীর্ঘশ্বাস]

বিস্তারিত পড়ুন

জিয়া নস্ট্যাল এবং গ্যালগ্যাল করে জিঙ্গল

আমার একটা ইয়ে আছে। মানে, স্মৃতিভ্রংশের বাতিক। পুরোপুরি না হলেও আংশিক তো বটেই। সেই কারণে অন্য অনেকের মতন আমি সাধারণভাবে নস্ট্যালজিয়ায় আক্রান্ত হইনা। তার চেয়েও সাঙ্ঘাতিক হল, পুরোন কথা বেশী মনে করার চেষ্টা করলে প্রায়শই মাথায় ফ (faux) বা নকল স্মৃতি ঢুকে পড়ে। হেই লেইগ্যা, আমারে পুরান কথা না জিগানোই মঙ্গল।

কিন্তু, মন্দের ভাল একটা ব্যাপার আছে। যেহেতু আমি গান ভালবাসি এবং সুরবোধ আছে, তাই অনেক সময়ে কোন গানের সুর একবার মাথায় বসে গেলে সেটা যেতে চায়না। স্মৃতির অতলে তলিয়ে থাকলেও মাঝে মাঝে বিনা প্ররোচনায় সার্ফেস করে আর জ্বালিয়ে মারে। কেন জ্বালিয়ে মারে? আরে, কাজকর্ম সব কিছুর মধ্যে মাথার মধ্যে গুনগুন করতে থাকে, কিছু বোঝার আগেই দুম করে বেরিয়ে পড়ে গলা দিয়ে, কি লজ্জার একশেষ!

বিস্তারিত পড়ুন