জিয়া নস্ট্যাল এবং গ্যালগ্যাল করে জিঙ্গল

আমার একটা ইয়ে আছে। মানে, স্মৃতিভ্রংশের বাতিক। পুরোপুরি না হলেও আংশিক তো বটেই। সেই কারণে অন্য অনেকের মতন আমি সাধারণভাবে নস্ট্যালজিয়ায় আক্রান্ত হইনা। তার চেয়েও সাঙ্ঘাতিক হল, পুরোন কথা বেশী মনে করার চেষ্টা করলে প্রায়শই মাথায় ফ (faux) বা নকল স্মৃতি ঢুকে পড়ে। হেই লেইগ্যা, আমারে পুরান কথা না জিগানোই মঙ্গল।

কিন্তু, মন্দের ভাল একটা ব্যাপার আছে। যেহেতু আমি গান ভালবাসি এবং সুরবোধ আছে, তাই অনেক সময়ে কোন গানের সুর একবার মাথায় বসে গেলে সেটা যেতে চায়না। স্মৃতির অতলে তলিয়ে থাকলেও মাঝে মাঝে বিনা প্ররোচনায় সার্ফেস করে আর জ্বালিয়ে মারে। কেন জ্বালিয়ে মারে? আরে, কাজকর্ম সব কিছুর মধ্যে মাথার মধ্যে গুনগুন করতে থাকে, কিছু বোঝার আগেই দুম করে বেরিয়ে পড়ে গলা দিয়ে, কি লজ্জার একশেষ!

এই তো, সেদিন, কর্মস্থানের গুপ্ত গর্ভগৃহে বসে আমার কোরীয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর সঙ্গে বসে এক্সপেরিমেন্ট-এর ইঁদুরদের নিয়ে নাড়াচাড়া করছি, হঠাৎ সে ছোকড়া আমাকে বলে, “হোয়াট ইস ইট দ্যাট ইউ আর হামিং?” (তুমি কি গুনগুন করছ?)
আমি তো আকাশ থেকে! “হোয়াট ডু ইউ মীন, হামিং?” (গুনগুন করছি মানে কি?)
সে বলে, “নাইস টিউন, [সুর করে] টুট্টু টুঁ-উঁ-উঁ, টুট্টু টুঁ-উঁ-উঁ, টারা-রা রা-রা-রা… আই লাইক ইট!”

ও হরি! এতো সেই বহু ছোটবেলায় শুনে শুনে কান পচে যাওয়া জিঙ্গল! সেই যে…

শুষ্কতার রুক্ষতার অবসান যদি চান
বারো মাস সারা অঙ্গে মেখে নিন
সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রীম বোরোলীন
ত্বক যদি কেটে যায় ফেটে যায়
খস খসে যদি হয় রোদ্দুরে ঝলসায়
সারা গায়ে মেখে নিন
সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রীম বোরোলীন

হঠাৎ করে সেইটা কেন যে গুনগুনাচ্ছিলাম, বা মাথাতেই বা কেন উদয় হল, কে জানে! যাইহোক, একমাত্র যেখানে এই জিনিষ অ্যাপ্রিশিয়েটেড হবে বলে আমি জানি, সেইখানে এই প্রসঙ্গটা নিয়ে ফেললাম – আমার ফেসবুক-এর বন্ধুদের একটা গ্রুপে। আর যায় কোথায়! আলোচনার ঝড় বয়ে গেল, জিয়া নস্ট্যাল হওয়া মানুষজনের সংখ্যা কি কিছু কম নাকি? কত কিছু যে জেনে ফেললাম – এই জিঙ্গলটা শ্রাবন্তী মজুমদার গেয়েছিলেন, এবং জনমানসে সেটা নাকি এতই ছেয়ে ছিল যে ওনাকে এইটা বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও গাইতে অনুরোধ করা হোত। একই সাথে আরও অনেক রেডিও এবং দূরদর্শনে সম্প্রচারিত বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল-এর মণিমুক্তো স্মৃতির গভীরে ডুব দিয়ে জনতা তুলে নিয়ে এল। এই ধরণের স্মৃতিতর্পণ অভিষেক-এর উপস্থিতি ছাড়া সম্পূর্ণ হয়না, তাই সে এসে পরার পর অচিরেই আড্ডা জমে গেল; এই বিষয়ের ওপর তার একটা পুরোন লেখা-ও কেউ একজন মনে পড়িয়ে দিল।

মুশকিল শুধু একটাই। বোরোলীন তো কোন মতে উতরে গেল। এখন কাজ করতে বসে যদি নিজের অজান্তেই রাজু গেঞ্জী-জাঙ্গিয়া-মোজার বিজ্ঞাপন করতে থাকি, তাইলে তো হয়েছে। কেউ কিছু না বুঝলেও, কেমন একটা ইয়ে লাগবে না?

অবশ্য একা থাকলে অসুবিধে নেই। আজ আমি গলা খুলে গেয়েছি –

“থোড়া কেচাপ ট্রাই করো”
“কেচাপ হোতা কদ্দূ ভরা”
“ঈসমে কদ্দূ নহী জরা”
“ওয়াহ, লাগতা ঘরকা বনা হুয়া!”
ভোলফার্ম… লাল রসিলে টমাটরোঁ সে হোতা য়ে তইয়ার,
ভোলফার্ম!


পুনশ্চঃ অভিষেক-এর অসম্ভব স্মৃতিশক্তির একটা নমুনা না দিয়ে পারা গেলনা। একটু পদধূলি চাইব ভেবে রেখেছি।

অভিষেকের কেরামতি
Advertisements

8 thoughts on “জিয়া নস্ট্যাল এবং গ্যালগ্যাল করে জিঙ্গল

কেমন লাগল? লিখে ফেলুন!

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s