মাতামহীরুহ

প্রতিদিন সকালে আমার ই-মেইল-এ বেশ অনেকগুলো করে কমিক্‌ স্ট্রিপ আসে। সেই ছোটবেলার অভ্যেস – আনন্দবাজারটা এলেই দ্বিতীয় পাতার নিচের বাঁদিকের কোণে অরণ্যদেব আর ম্যানড্রেক যাদুকরের গল্পে চোখ বুলিয়ে নেওয়া – সেইটা এখনও ছাড়তে পারিনি। অরণ্যদেব-ম্যানড্রেক এখনও পড়ি, তার সঙ্গে জুটেছে আরও গোটা দশ বারো বিভিন্ন লেখকের তৈরী কমিক্‌স্‌ – বিভিন্ন ধরণের। তার মধ্যে একটা হোলো “জিট্‌স্‌” – একটা টিন-এজার ছেলে, তার মা-বাবা এবং বন্ধুবান্ধবের গল্প। সবসময়ে যে এই ধরণের কমিক্‌স্‌-এর সঙ্গে নিজেকে আইডেন্টিফাই করতে পারি, তা নয় – অনেক সময়েই অজান্তে একটা “আমাদের সময়ে বাবা এরকম ছিলনা…” গোত্রীয় বুড়োটে চিন্তা চলে আসতে চায়। কিন্তু আজকের স্ট্রিপ-টা দেখে হঠাৎ ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল।

উৎসঃ Zits (via Daily Ink), May 1, 2013; by Jerry Scott and Jim Borgman


বড় করে দেখতে হলে ছবির ওপর ক্লিক করলেই হবে

আমার দিদিমা – আমার সাধের ‘দাদি’ – আমার মা-এর মা, একটা জিনিষ চমৎকার বানাতে পারতেন – ক্ষীরের তক্তি; দুধ জাল দিয়ে ঘন করে করে ক্ষীর হোতো, সেই ক্ষীরে কিসব ম্যাজিক-এর মত উপাদান পরত, এবং তার পর বিভিন্ন আকার এবং আয়তনের ছাঁচের মধ্যে ভরে রাখা হোতো যতক্ষণ না জমে শক্ত হচ্ছে। কোথায় লাগে চকোলেট চিপ বার আর সুগার কুকি! সেই তক্তির যে কি অমৃতসমাণ স্বাদ হোতো, সেটা অবর্ণনীয়। আমি যখন আবাসিক স্কুলে চলে গেলাম, তখন মাঝে মধ্যেই আমার জন্য তৈরী হয়ে আসত দাদির হাতে বানানো তক্তি। সেই স্বাদ এখনো যেন মুখে লেগে রয়েছে।

কিন্তু হায়! প্রায় যুগ কেটে গেল দাদি অসুস্থ, আর শরীরে দেয়না রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে পরিশ্রম করে তক্তি বানানো। এখন আর তাই বলিওনা, কারণ শুনলে কষ্ট পায়। এক দু’বার আমার বেদনালাঘবার্থে মদীয় জননী চেষ্টা করেছেন তক্তি তৈরী করে দেবার, অন্য দুয়েক জায়গাতেও বানানো তক্তির মত মিষ্টদ্রব্য খেয়ে দেখেছি, কিন্তু সেই স্বাদ আর ফিরে পাইনি। মাতামহীর আদরের স্বাদ কি আর অন্য কারো হাতে আসতে পারে?

Advertisements

6 thoughts on “মাতামহীরুহ

কেমন লাগল? লিখে ফেলুন!

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s