লান সু ইউয়ান চৈনিক উদ্যান – চতুর্থ কিস্তি

লান সু ইউয়ান-এ বিদ্যাভ্যাস, চিন্তন, মনন শেষে চলুন আরো এগিয়ে যাই, নাকি? এখনো অব্দি কেমন বুঝছেন?

এখান থেকে নির্গত হয়ে ডানদিকে ঘুরলেই জলাশয়, দু’পা এগোলেই দেখা যাবে ‘তালাবদ্ধ চন্দ্রকলার মণ্ডপ’ বা ‘মুন-লকিং প্যাভিলিয়ন’ – যেখানে দাঁড়িয়ে নির্মেঘ পরিস্কার সন্ধ্যেবেলায় চাঁদের প্রতিবিম্ব ঝিলমিলে জলের ওপরে দেখা যেতে পারে।

Moon-locking pavilion

জলাশয়ের ধার ঘেঁষে পায়েপায়ে ফিরে ডানদিকেই ‘বসন্তের বৃষ্টিতে স্নানরত পুষ্পরাজি’ বা ‘ফ্লাওয়ার্স বেইদিং ইন স্প্রিং রেইন’ নামক এক মণ্ডপ, এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জিনিস হল গিংকো কাঠের ছ’টি প্যানেল, তাতে বিভিন্ন সুজৌ উদ্যানের দৃশ্যাবলী খোদাই করে আঁকা রয়েছে। প্যানেলগুলোর পিছনের দিকে তাদের বর্ণনা করা আছে ভিন্ন ভিন্ন চৈনিক লিপিবিদ্যার শৈলীতে।

Flowers in Spring Rain Ginkgo panels
বাঁয়ে – বিভিন্ন সুজৌ উদ্যানের ছবি চিত্রিত করা প্যানেল-এর সামনের দিক; ডাইনে – প্যানেল-এর পিছনে বর্ণনা

Flowers in Spring Rain

এখান থেকে বেরিয়ে ‘রঙধনু সেতু’ পেরিয়েই হল ‘বুটিদার মেঘের দালান’ বা ‘হল অফ ব্রোকেড ক্লাউড্‌স্‌’ – যার হলঘর ব্যবহৃত হোতো পারিবারিক অনুষ্ঠানাদি এবং গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য। গিংকো কাঠের প্যানেল ভিতরের দরজার চারপাশে, তাতে খোদাই করা শীতের তিন বন্ধুর ছবি; দুইজন সুজৌ খোদকারের ২০০ দিন লেগেছিল এই প্যানেলগুলো তৈরী করতে।

Rainbow bridge
রঙধনু সেতু

Hall of Brocade Clouds
বুটিদার মেঘের দালানের নানা দৃশ্যপট; ছবির নিচে ডানকোণায়, ড্রাগন মাছ-এর অবয়ব

বাইরে থেকে ঘরের ছাদের দিকে তাকালে দেখা যাবে দুটো বড় ড্রাগনমাছ; তাদের ‘কাজ’ হল বাড়িটিকে অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা করা, কারণ তারা হল সমুদ্রদেবতার প্রতীক, যিনি বৃষ্টি আনেন। মৎস্যদ্বয়ের দু’পাশে চারটি গাছ, একদিকে ‘বুদ্ধ-হস্ত’ (চৈনিক ভাষায় ‘ফো শু’, সুখ এবং সমৃদ্ধির প্রতীক) এবং বড়ই (ন্যায়পরায়ণতা এবং শক্তি, ইত্যাদি), আর অন্যদিকে ডালিম (অনেক সন্তানাদি) এবং পীচ (দীর্ঘ জীবন)।

বাগানের পশ্চিমপ্রান্তে এগিয়ে গেলে একটি নৌকাকৃতি পটমণ্ডপ, তার নাম ‘ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে রঞ্জিত নৌকা’ বা ‘পেইন্টেড বোট ইন মিস্‌টি রেইন’, পরিতোষ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতীক। এর চারপাশে উইলোগাছের সারি, সাজানো পাথরখণ্ড বা বলা যায় শৈলোদ্যান, এবং জল; এমনভাবে অবস্থিত যেন মনে হয় শহর থেকে অনেক দূরে, স্বাধীনতার ছোঁওয়া পাওয়া যায়।

Painted Boat in Misty Rain - inside
বাঁয়ে – নৌকা ভেসে এসেছে সুজৌ থেকে পোর্টল্যাণ্ড; ডাইনে – ভিতরে কারুকার্যের এক ঝলক

এর মধ্যে দিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলে একটা ছোট্ট সেতু পার হলেই আরেকটি তাই হু শৈলোদ্যান এবং ঝর্ণা; এধরণের তাই হু-র সারিকে দূর থেকে যেন পাহাড় এবং মেঘের মত লাগে। ঝর্ণার গায়ে একটা বড় পাথরের গায়ে খোদাই করা, “ঘন মেঘে আচ্ছাদিত দশ সহস্র গিরিসংকট”।

Waterfall

এই পথে এগিয়ে গেলে সুজৌ উদ্যানের একমাত্র দোতলা বাড়ি, তার নাম ‘মহাজাগতিক প্রতিফলনের মিনার’ বা ‘টাওয়ার অফ কস্‌মিক রিফ্লেকশন্‌স্‌’ – এরকম বাগানবাড়ির দোতলা থেকে সাধারণত মহিলারা নিচের চত্বরে নাটকের অভিনয় দেখতেন। বাগানের কর্তৃপক্ষ এখন এই সামনের চত্বরে নিয়মিত তাই চি ব্যায়াম শিক্ষার বন্দোবস্ত করে থাকেন। বাড়িটির ভিতরে প্রাচীন শৈলীর আসবাবপত্র, হাল্কাভাবে বাজা সঙ্গীত, এবং ধূপের গন্ধ বেশ একটা মিং সাম্রাজ্যের আবহাওয়া তৈরী করে। এখানে চৈনিক চা এবং অল্প খাবার-দাবারও বিক্রী হয়। এখানে দু’দণ্ড জিরিয়ে নিন, ক্ষিদে পেলে কিছু খেয়ে নিতেও পারেন; আমাদের আজকের যাত্রার এখানেই পরিসমাপ্তি। আমার সঙ্গে ভ্রমণের জন্য ধন্যবাদ, শুভরাত্রি বা শুভদিন।

Tower of Cosmic Reflexion

Advertisements

2 thoughts on “লান সু ইউয়ান চৈনিক উদ্যান – চতুর্থ কিস্তি

কেমন লাগল? লিখে ফেলুন!

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s