মন্দিরে মম কে?

আজকাল কাজের জ্বালায় লেখার একটুকু সময় পাইনা। মাঝে মধ্যে যদিবা বন্ধু-বান্ধবের লেখাপত্র একটু চোখ বোলানোর সময় করে নিই, কিন্তু নিজে বসে লেখা? হায়। যাকগে, সে হতাশার মাঝ থেকেও চেগে উঠলাম একবার কুন্তলার অনুপ্রেরণায়… অবশ্য তার বিন্দুবিসর্গও কুন্তলার জানার কথা নয়। না, ভুল হল; এতে কুন্তলার কোনো হাত নেই। অনুপ্রেরণাটা এল কুন্তলার ভক্ত পাঠিকা/পাঠক-কূলের একজনের একটা কমেন্ট থেকে। একটু ফিস্‌ফিস্‌ করেই বলে ফেলি, কেমন?

জার্মানীতে বসবাসের কথা ধারাবাহিক ভাবে কুন্তলা তো লিখছেই (আহা, বড্ড ভাল লেখে মেয়েটা!), তার মধ্যে মধ্যেই বিশেষ উপাদেয় হল তার সপ্তাহান্তের ভ্রমণকাহিনীগুলো। এই তো দু’দিন আগেই একটা খটোমটো নামের জায়গা থেকে ঘুরে এসে ছবিছাপ্পা সমেত স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে দুর্দান্ত বর্ণনা দিল। সেখানে কথা হয়েছিল যে জার্মানীতে নাকি বেশিরভাগ জায়গায় রবিবারটা মৃতপ্রায় হয়ে থাকে, দোকানপাট বন্ধ থাকে, জনমনিষ্যির খুব একটা দেখা মেলে না। সেই কথা শুনে জনৈকা পাঠিকা/পাঠক গভীর সহানুভূতির সঙ্গে জানালেন, এর জন্য আগে থেকে প্ল্যান করে আর কিছু না হোক, টয়লেট পেপার যেন কিনে রাখা হয়। সেই কথা পড়ে আমার মনের মধ্যে একদফা স্মৃতিতর্পণ হয়ে গেল।

বাঙালীর জীবনের অন্যতম সেরা জায়গাটি, প্রতিদিন একান্তে দর্শন না করে এলে সমস্তদিন হাসিমুখে আড্ডা দেবার পরিকল্পনা এক্কেবারে বানচাল। তাই তো বাঙালী আদর করে জায়গাটার নাম রেখেছে সিংহাসন, বা মন্দির। অবশ্য আরও অন্য নামও আছে, বিশেষত ঊর্দু থেকে আগত একখানি নাম বেশ প্রসিদ্ধ, কিন্তু ঊর্দু হলে কি হবে, সে নামে কোন কবিত্ব নেই। তাই আর ওদিকে যাচ্ছিনা।

বাঙালীর এই মন্দিরে অন্যান্য সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্গে দুটো জিনিষ-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। জল – সে কল থেকেই ঝরে পড়ুক বা বালতিতে ধরা থাক – এবং মগ। আমার এক ভ্রাতৃসম বন্ধুর কথায়, সাচ্চা মগের মুলুক। তবে কিনা এই কথা থেকেই প্রমাণ হয়ে গেল আমি যথেষ্ট বয়োঃজ্যেষ্ঠ, কারণ আজকালকার প্রজন্মকে মগ-জলের কথা বললে কজন বুঝবে হাতে গোনা যাবে, আর যারা বুঝবে তাদের দশজনের মধ্যে আটজনই হয়তো মুখে বা মনে বলবে, “ইইইইইইই!! ডার্টি!”

আধুনিক বাঙালীদের যা যা রে অপনে মন্দিরবা-র অত্যাবশ্যক উপাদান হল ওই টয়লেট পেপার, অর্থাৎ সাধুভাষায় যার নাম হাগজ। মনে আছে নিশ্চয়, অবিস্মরণীয় ভানুবাবু তো আমগোরে কইয়াই গ্যাসেন, “যদি টিস্যু পেপার অয় তেইলে কোন কথা নাই। যদি টয়লেট পেপার অয়, তেইলে দুইখান কথা আসে।” বিদ্বজ্জনের কথা অমান্য করার উপায় আছে? তাই তো এই প্রসঙ্গের অবতারণা।

হাগজ। অ্যামেরিকার টিভির বিজ্ঞাপনের দৌলতে জেনেছি হাগজ কত রকমের হয়। পদ্মপাঁপড়ির মত পেলব, নরম, আবার ওদিকে অম্বুজা সিমেন্ট-এর মত শক্তিশালী। থ্রি প্লাই, ফোর প্লাই। কখনো একটানা লম্বা রোল, কখনো আবার সুকৌশলে ফুটো ফুটো করা, যাতে টান দিলে চৌকো মত একটা টুকরো সহজেই হাতে ছিঁড়ে চলে আসে। কার্টুন বাচ্চা ভালুক এসে বিশেষ ব্র্যাণ্ড-এর হাগজ দেখিয়ে বলবে, ইউ হ্যাভ টু গো, হোয়াই নট এন্‌জয় দা গো? সেই হাগজই আবার আবার জলে ভিজলে তৎক্ষণাৎ পারমাণবিক পর্যায়ে ভেঙে গিয়ে ছিঁড়ে গলে জলের স্রোতে মিশে উধাও হয়ে যাবে।

অথচ বিশ্বাস করুন, ১৯৯৬-সালের জানুয়ারী মাসের আগে পর্যন্ত আমার হাগজ সম্পর্কে কোন ধারণা ছিলনা। ওই যে বললাম, বয়োঃজ্যেষ্ঠ! লণ্ডন-এর উত্তরে লীড্‌স্‌ শহর, শহরের নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের প্রয়োজনে গেছি জানুয়ারী মাসে, জীবনের সেই প্রথম বিদেশভ্রমণ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থাকার বন্দোবস্ত করেছে ওদেরই স্টুডেন্ট হোস্টেল-এ। তিনতলার করিডোর-এর একপ্রান্তে এক চিলতে একটা ঘরে আমার থাকার জায়গা, আর করিডোর-এর মাঝামাঝি দুইখানা ছোট খুপড়ি মত ঘর, যার একটা দেখি চানের জায়গা, আর তার পাশেরটা সিংহাসন সমেত মন্দির। বড় পবিত্র জায়গা। ওই দু’খানা খোন্দল দিয়ে পুরো করিডোর-এর অন্তত চার-পাঁচ ঘর লোকজনের নিত্যদিন কি করে কুলায় কে জানে, কিন্তু ওই আর কি। সকালে দশটা নাগাদ, যখন সবাই কাজে কর্মে বেরিয়ে পড়েছে, তখন একজন জ্যানিটর আসেন সব পরিষ্কার করে ঝকঝকে করে দিতে। এবং অবশ্যই তিনি হাগজের বন্দোবস্ত করে যান, সে ঐ সুপারমার্কেট-এ কেনা পিচ্চি রোল নয়, রীতিমত দমকলের ফায়ার হোসের মত আয়তনের রোল, তার ব্যাসার্ধই প্রায় ছয় ইঞ্চি মত। হাগজের রোল-টা একটা প্লাস্টিক-এর বাক্সে রাখা থাকে, তার আবার দাঁতওয়ালা ধাতব ঢাকনা। টেনে বার করার সময়ে সেই দাঁতের চাপে টুকরো ছিঁড়ে আসে।

প্রথমদিন কাজে যাব, সকলের সঙ্গে দেখা হবে – ডিপার্টমেন্ট-এর চেয়ার যে ভদ্রলোক তিনি ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও সময় বার করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিয়েছেন। মোটামুটি সব প্ল্যান মাফিকই এগোচ্ছিল। অ্যালার্ম-এর শব্দে ঘুম ভেঙে উঠে দাঁত-টাত মেজে তৈরী হচ্ছি, ওমনি প্রেমভরে ডাক দিলেন প্রকৃতি।

কেহ নাহি জানে ডাকিবে কখন মৃত্যু অথবা প্রকৃতি
সাড়া নাহি দিব, ছুটিয়া না যাব – এমন কি আছে শকতি?

ভাগ্যক্রমে মন্দিরের দরজা খোলাই ছিল, আমাকে আর খোলো খোলো দ্বার গাইতে হয়নি। আমি তো সিংহাসনে যথাযোগ্য উপবিষ্ট হলাম। জায়গাটা এতই ছোট যে একটু সিঁটিয়ে রইলাম, খালি বেমক্কা ভয় হতে লাগল দেওয়ালগুলো যেন দু’দিক থেকে এসে আমাকে চিঁড়েচ্যাপটা না করে দেয়। যে ব্যক্তির দায়িত্ব ছিল হোস্টেল-এর এই অপরিহার্য অংশের ডিজাইন করা, তিনি খুব সম্ভব তার আগে কোন এরোপ্লেন তৈরীর কোম্পানীতে চাকরী করতেন। স্থানাভাব এমনই যে দরজা থেকে ব্যাকগিয়ার দিয়ে প্রবেশ এবং প্রয়োজনান্তে ফার্স্টগিয়ার দিয়ে সোজা প্রস্থান – এই ছাড়া উপায় নেই। সে যাকগে, কার্যসিদ্ধির পরে যখন উঠে পড়ার তোড়জোর করছি, এমন সময় মাথায় বজ্রপাত। অভ্যেসবশত এদিক ওদিকে মগ খুঁজছি, দেখি মগ তো দূরস্থান, জলেরই বিন্দুমাত্র কোন দর্শন নেই। দুপাশে, পিছনে ঝকঝকে সিরামিক-এর টাইল-ওয়ালা দেওয়াল, নিচে টাইল-ওয়ালা মেঝে আর মধ্যিখানে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত এই অধম। এখন উপায়?

বাপের জন্মে কোনদিন হাগজের সঙ্গে মোলাকাত হয়নি। কিন্তু কি আর করা? পড়েছি মোগলের হাতে… ইত্যাদি মনে করে হাত বাড়িয়ে টানতে শুরু করলাম হাগজের রোলটাকে। প্রথম দু’বার দাঁতের খোঁচায় এক এক চিলতে টুকরো হাতে চলে এল, সেগুলো নিতান্তই অকিঞ্চিৎকর এবং ব্যবহারের অযোগ্য। অবশেষে দাঁতে (নিজের) দাঁত চেপে সাবধানে টানলাম, বেশ কিছুটা বেরোল – সেটাকে চার লেয়ারে ভাঁজ করে কোনমতে বামহস্তের ব্যবহার। আবার কিছুটা টেনে বার, আবার ব্যবহার। কিছুতেই প্রাণে শান্তি হয়না, কিছুতেই সেই জলের মত তৃপ্তি আসেনা – কিছুতেই মনে হয়না পরিস্কার হয়েছে। এদিকে আমার ডিপার্টমেন্ট-এ যাবার দেরী হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমি উঠতে পারছিনা। শেষমেশ যখন পশ্চাদ্দেশে জ্বালা ধরে গেল ঘষার চোটে – কাঠের হলে এতক্ষণে মসৃণ হয়ে আসবাব হয়ে যেত – তখন আমার কিছুটা শান্তি হল। হাগজের রোল-এর ছয় ইঞ্চি ব্যাসার্ধ ততক্ষণে তিন ইঞ্চিতে নেমে এসেছে। সপ্তাহ তিনেক মত ছিলাম সেই হোস্টেল-এ। ততদিনে বেশ হাগজ ব্যবহারে চৌখস হয়ে এসেছি। নিজের মনেই বিভিন্ন রকম টেকনিক-এর উদ্ভাবন করে ফেলেছি। ছয় থেকে ব্যাসার্ধ এখন আর সাড়ে চার-এর নিচে নামেনা। একদিক থেকে সেটা অবশ্যই ভাল, কারণ যেদিন শেষবারের মত সেই হোস্টেল থেকে চলে আসছি, দু’জন জ্যানিটর-এর আলোচনা কানে এসেছিল – ওরা নাকি হয়রান হয়ে যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিন হাগজ-এর রোল পুনঃপুনঃ ভর্তি করতে করতে।

আমি বাণবিদ্ধ হাসি মুখে নিয়ে তাদের পাশ কাটিয়ে চলে এলাম। আমি এখনও জল-মগের অনুরাগী, তবে হাগজকে আমি আর ভয় পাইনা।


পুনশ্চঃ- জনতা, এবার হবে নাকি একটা ট্রুথ ওর ডেয়ার-এর খেলা? বিশেষ কিছু না, কমেন্ট-এ লিখেই জানান – আপনি জন্মাবধি হাগজবিলাসী, নাকি তৎপরবর্তীকালে এই চরম দক্ষতাটি আয়ত্ত করেছেন? নিজে, না কেউ শিখিয়ে দিয়েছে?

Advertisements

17 thoughts on “মন্দিরে মম কে?

  1. আমাকে শিখিয়েছে হলিউড। আমি আগে থেকে জানতাম ব্যাপারটা কী। আমার আজ অবধি হাগজনিত অস্বস্তি কাটেনি।

    আমার প্রিয় পদ্ধতি এখনও হেলথ ফসেৎ, যাকে কলকাতার কথ্য ভাষায় কমোড শাওয়ার বলে।

    • এটা তো নিশ্চয় জানো যে এই ব্যাপারের প্রযুক্তিতে জাপানীরা সারা বিশ্বের থেকে অনেক আগে এগিয়ে আছে। ফরাসী ভাষায় একে বিদে (bidet) বলে, সেটা আমার নিম-পছন্দ। নিম-পছন্দ এই কারণে বলছি, যে যে কটা আমি দেখেছি আমার অভিজ্ঞতায়, সেগুলোর সবক’টাতেই জলের তোড়টা ঠিক প্রপারলি ডাইরেক্টেড পাইনি। অগত্যা…

    • থ্যাঙ্ক ইউ সৌমেন-কাকু। আপনার কমেন্টটি যেহেতু রোমান হরফে লেখা, তাই আলোচ্য বিষয়বস্তুর কথা মাথায় রেখে একটা ছোট্ট বানান চেঞ্জ করে দিলাম, d থেকে r -এ পরিবর্তন করলাম, যাতে অর্থ সম্পর্কে কোন সন্দেহের অবকাশ না থাকে।

  2. “আজকালকার প্রজন্মকে মগ-জলের কথা বললে কজন বুঝবে হাতে গোনা যাবে”, আর এদের যদি বদনা বা গাড়ু হাতে ফাঁকা মাঠে যাবার কথা বলা হয় নির্ঘাত মুর্ছা যাবে! 🙂

    • নীলমণিদা, এই ব্যাপারে আপনি আমায় ঈশ্বর-টিশ্বর বা প্রযুক্তিবিদ-টিদ যাকে ধন্যবাদ দিতে বলবেন, দিয়ে দেব। আমি অত্যন্ত পুলকিত এমন সময়ে জন্মাতে পেরে যখন ইন্ডোর প্লাম্বিং টা স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে ধরা যায়।

      • মানে, দারুন ভাল হয়েছে । বিদে সম্বন্ধে আমারো বিশেষ ভরসা নেই – তাই এখনো হাগজই দিস্তা দিস্তা উড়ছে । আমার মনে হয় সব ভারতীয়রাই চার পাট করে হাগজ ব্যবহার করে,, মিনিমান । আমার দাদা আমার বাড়ীতে এসে বলেছিল এই একটা ভদ্র বাড়ী প্রথম দেখলাম যেখানে গাড়ু আছে ! (শাশুড়ির জন্য অন্ততঃ একটা মগ টাইপ রাখতে হত।) আরো লেখ কৌশিক ।

  3. যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমন ভালো লেখা। আমাকে কেউ শেখায়নি, তবে এ জিনিস আন্দাজ করা তো শক্ত নয়, আর না শিখলে বিপদ, তাই শিখে ফেলেছি। আমার আবার জল-মগ ইত্যাদির থেকে টয়লেট পেপার অনেক বেশি পছন্দের। হেলথ্‌ ফসেট খারাপ না, তবে কাগজ বেটার।

    • তোমরা সব আধুনিক বাঙালী, হে কুন্তলে, তাই তোমাদের পক্ষে আন্দাজ করা শক্ত যে নয় সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমার পক্ষে ফিগার আউট করতে বেশ বেগ (নো পান ইন্টেন্ডেড, অফ কোর্স) পেতে হয়েছিল, এটা বলতে পারি।

  4. Amra ekhaane (Sheffield e) ashar por je agent bhodromohila baRi bikri korechhilen, tini eshe baRi taRi abaar bhalo kore bujhie shudholen, apnara koto ply hagoj byabohar koren? amra to shune hnaa! bole ki hotobhaga? etoshob korar pore hagojer ply niye matha ghamate hobe? boley, khobordar 2-ply er beshi hagoj ei toiletey byabohar korben na, du piece er beshi na byabohar korai bhalo ekekbaar | Na holeyi hne hne, septic tank er barota … 2-ply biodegradable “organic” hagoj —
    golpota shesh korbo ei bole je gotokaal amader konya maurinemoti ekkhani puro notun shodyo lagano hagojer roll chhniRe chhniRe khela kore toiler er modhye dhukiye diyechhen — trekking korte giye maa’er roshkashayito jerar mukhe janalen | Shei obdhi chintaay achhi |

    • কি সাংঘাতিক! হাগজেও রেস্ট্রিকশন? ভাগ্যিস নিজের কেনা বাড়ীতে থাকিনা, অরিন-দা… তাই তো সেপ্টিক ট্যাঙ্কের হালত নিয়ে বিশেষ চিন্তা করতে হয় না! তবে চিন্তা করনা, Maurin-এর এক্সপেরিমেন্ট-এর সাফল্য অনিবার্য, বায়োডিগ্রেডেবল যখন, ও ঠিক টু ডাস্ট দাও রিটার্নেস্ট হয়ে যাবে।

    • ধন্য, ধন্য! আমি এখনও সব্যসাচী হতে পারলাম না; তাই তো অনেকের বাড়ীতে, বা হোটেল-এর ঘরে, যখন দেখি যে হাগজের রোল-টা বাঁদিকে কোথাও আটকানো রয়েছে, তখন বেজায় অস্বস্তিতে পড়ি, কারণ প্রতিবার হাগজ-এর টুকরো ছেঁড়ার সময় ওই ক্যালিস্থেনিক্‌স্‌–এর ভঙ্গীতে ডান হাত টাকে বাঁদিকে চালনা করতে হয়…

  5. এক সময়ে কাগজশিল্পে কাজ করার সুবাদে বেশ কিছু মজার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বিশেষ করে হাগজ-জনিত ব্যাপারে। সবাই বোধ হয় জানে যে হাগজশিল্প আর সাধারন কাগজশিল্পের (যেমন খবরের কাগজ, বইয়ের কাগজ, লেখার বা ছাপার কাগজ, ম্যাগাজিনের কাগজ, প্যাকিঙের কাগজ, বাক্সের কাগজ ইত্যাদি) ভেতর অনেক তফাত। একটা কাজে একবার ক্যানাডার টরন্টো শহরে গেছিলাম Kimberley Clark (Kleenex-এর নির্মাতা) সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে। একথা সেকথার পর এক ভদ্রলোক আমাকে ওঁদের গবেষণা কেন্দ্রে নিয়ে গেলেন। সেখানে দেখলাম একজন গবেষক কাজ করছেন হাগজের রোলে কতটা তফাতে perforation গুলো বসানো হবে সেই নিয়ে। কেন এই নিয়ে গবেষণা করছেন বলতে গিয়ে গবেষক একটি demonstration মন্দিরে নিয়ে গিয়ে দেখালেন মানুষ কি ভাবে মন্দিরে পুজোর পর হাগজ ব্যবহার করে এবং এক এক বার ব্যবহারের সময়ে কটা করে perforated section দরকার হতে পারে। অনেক পান্ডিত্য অর্জন করে সেবার ফিরে এলাম।

কেমন লাগল? লিখে ফেলুন!

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s