শাখামৃগোপাখ্যান

ক’দিন পূর্বে আমার বন্ধু মধুবন্তীর মুখপুস্তিকার পাতায় একটি মজার ছবির দর্শন মিলিয়াছিল – একটি ঘুমন্ত বাঁদর। চার-হস্ত-পদ একত্রিত করিয়া, খুব সম্ভবত নাসিকাভ্যন্তরে সর্ষপতৈল নিক্ষেপপূর্বক সে পরম শান্তিতে দিবানিদ্রায় নিমগ্ন – এমতাবস্থায় কোন উৎসাহী প্রকৃতিপ্রেমী চিত্রগ্রাহক/গ্রাহিকা তাহাকে ক্যামেরাবন্দী করিয়া ফেলে।

বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

মাতামহীরুহ

প্রতিদিন সকালে আমার ই-মেইল-এ বেশ অনেকগুলো করে কমিক্‌ স্ট্রিপ আসে। সেই ছোটবেলার অভ্যেস – আনন্দবাজারটা এলেই দ্বিতীয় পাতার নিচের বাঁদিকের কোণে অরণ্যদেব আর ম্যানড্রেক যাদুকরের গল্পে চোখ বুলিয়ে নেওয়া – সেইটা এখনও ছাড়তে পারিনি। অরণ্যদেব-ম্যানড্রেক এখনও পড়ি, তার সঙ্গে জুটেছে আরও গোটা দশ বারো বিভিন্ন লেখকের তৈরী কমিক্‌স্‌ – বিভিন্ন ধরণের। তার মধ্যে একটা হোলো “জিট্‌স্‌” – একটা টিন-এজার ছেলে, তার মা-বাবা এবং বন্ধুবান্ধবের গল্প। সবসময়ে যে এই ধরণের কমিক্‌স্‌-এর সঙ্গে নিজেকে আইডেন্টিফাই করতে পারি, তা নয় – অনেক সময়েই অজান্তে একটা “আমাদের সময়ে বাবা এরকম ছিলনা…” গোত্রীয় বুড়োটে চিন্তা চলে আসতে চায়। কিন্তু আজকের স্ট্রিপ-টা দেখে হঠাৎ ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল।

বিস্তারিত পড়ুন

ফুচকার আখ্যান

এরম করলে খেলবনা। জানি কুন্তলা ভাল লেখে, দুর্দান্ত লেখে; জানি তার অসাধারণ পর্যবেক্ষণ শক্তি এবং বর্ণনার ক্ষমতা, তার কলম থুড়ি কীবোর্ড-এ সাক্ষাৎ সরস্বতীর অধিষ্ঠান। কিন্তু তাই বলে ফুচকা নিয়ে এমন লিখবে, এত মনোগ্রাহী একটা লেখা? প্রচণ্ড হীনমন্যতায় ভুগে ভুগে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে গেলাম প্রথমে। তারপরই অবশ্য সম্বিত ফিরল, বলা যায় – ছাই থেকে ফিনিক্স-পাখির মত বেরিয়ে এলাম, ডান কাঁধের দেবদূত বাঁ কাঁধের হিংসুটে শয়তানকে একটা সাধারণ প্রশ্ন করল, যখন নবনীতা দেবসেন-এর লেখা পড়ি, তখন কি হিংসা হয় আদৌ – নাকি অনাবিল আনন্দে শুধু উপভোগই করি ওনার লেখনীমাধুর্য? ব্যস! সব পারুষ্য অচিরেই উধাও হয়ে গেল, রয়ে গেল একটা চমৎকার লেখা পড়ে ওঠার আবেশ। ওঃ, আমি আগে কখনও বলিনি? কুন্তলার লেখায় আমি নবনীতাদিদির ছায়া পাই যে!

বিস্তারিত পড়ুন

শান্তিকামনা মাত্র

সাধারণতঃ বাংলা নববর্ষ, বা পয়লা বৈশাখ, নিয়ে আমি অন্য অনেকের মত এত উৎফুল্লিত হয়ে উঠিনা। পেশা-সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক কারণে ইংরেজী ক্যালেণ্ডার মতে জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বরের বছরের হিসেবটাই আমার কাছে জরুরী। ছোটবেলায় পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানের নাচগান, এবং বৈশাখ মানেই গ্রীষ্মাবকাশের সূচনার হাতছানি – এই দুই কারণে তাও যেটুকু পুলকিত হয়ে উঠতাম, এখন সেগুলো ধীরে ধীরে বিলীয়মান স্মৃতির মত। কিন্তু তাও, আমি জানি যে আমার আত্মীয়পরিজন বন্ধুবান্ধবের কাছে বাংলা নতুন বছরের এই প্রথম দিনটি বিশেষ তাৎপর্য রাখে, এবং সেইকারণেই প্রতিবছর এই দিনটা তে নিয়মমাফিক আমিও শুভেচ্ছা-প্রীতি বিনিময় করে থাকি।

বিস্তারিত পড়ুন

আরামকেদারায় বসে দুই পা নাচাই রে…

সেই যে ওয়ার্ডেন-এর গল্প করেছিলাম আমার তৃতীয় পোস্ট-এ, আর এই যে চেয়ার-এর গল্প বললাম আমার অষ্টম পোস্ট-এ – দুটোর মধ্যে একটা চমৎকার ছেদবিন্দু আছে, তার নাম ইজি-চেয়ার, বা আরামকেদারা। ছেদবিন্দু বা ইন্টারসেকশন বললাম বটে, কিন্তু বোধহয় একটু অঙ্কের সাহায্য নিতে হবে, একটা ভেন ডায়াগ্রাম আঁকতে হবে, অনেকটা ধরুন এইরকম।

আমি আবার অঙ্কে বেশ কাঁচা, তাই ভুলত্রুটি হলে একটু ক্ষমাঘেন্না করে নেবেন।

বিস্তারিত পড়ুন

চেয়ার-এর চে’ আর বিপজ্জনক কিছু আছে নাকি?

চেয়ার বা কেদারা বা কুর্সি বা আসন – ইত্যাদি দেখলে আপনাদের কি অনুভূতি হয়, বন্ধুরা? ধরুন, অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করছেন বা হাঁটাহাটিঁ করে এসেছেন, হঠাৎ একটা চেয়ার দৃষ্টিগোচর হল, ঠিক তখন মাথায় কি ধরণের চিন্তা খেলে যায়? ইচ্ছে করে না, তৎক্ষণাৎ কাছে টেনে নিয়ে গা টা এলিয়ে দেন? ক্লান্ত কোমরটাকে দু’দণ্ড একটু শান্তি দেন? হয়রান হাঁটুদুটো খানিক জিরিয়ে নেন? সাধু সাবধান। এই চেয়ার অতিশয় বিপজ্জনক বস্তু – অত্যন্ত খামখেয়ালি, এই মুহূর্তে আছে বলে যে পরের মুহূর্তেও স্বস্থানে থাকবে, এরকম কোন গ্যারান্টি কেউ দিতে পারেনা।

বিস্তারিত পড়ুন

স্থানান্তরের আতান্তরে

আবার সে এসেছে ফিরিয়া! এক্কেবারে পাগলা দাশুর স্টাইলে এনট্রি নিয়ে।

সুধীজন, হঠাৎ করে হাপিস হয়ে যাওয়ার জন্য যারপরনাই দুঃখিত। শেষবার আপনাদের সঙ্গে কথা হবার পরে পরেই জীবন বাবাজী – হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই দৈনন্দিন জীবনের কথাই বলছি – হঠাৎ এসে কলার চেপে ধরল, কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করল, “ইয়ার্কি হচ্ছে, চাঁদু? সামনে একটা বড় কাজ পড়ে রয়েছে, তার বন্দোবস্ত কে করবে?” খ্যাঁচানি খেয়ে সম্বিত ফিরল, সত্যিই তো, মার্চের মাঝামাঝি আমাদের বাড়ি বদল করার কথা – তার তো গোছগাছ শুরু করতে হয়।

বিস্তারিত পড়ুন